ঢাকা, ২০ জুলাই ২০২৫ — জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম আজ রবিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে বান্দরবানকে ঘিরে তার "অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দচয়ন" নিয়ে সমালোচনার মুখে এই প্রতিক্রিয়া আসে।
“আমরা লড়াই করব সব জাতিগোষ্ঠীর অধিকার ও মানবিক মর্যাদা নিয়ে; জুলাই পদযাত্রা থেকে এটাই আমাদের অঙ্গীকার। বান্দরবান নিয়ে কিছুদিন আগে একটি বক্তব্যে যে অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দচয়ন হয়েছে, সেটার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।” — সারজিস আলম, ফেসবুক পোস্ট
বিতর্কের শুরু ৩ জুলাই ২০২৫, পঞ্চগড়ে আয়োজিত "জুলাই পদযাত্রা" চলাকালে। সেখানে দেওয়া এক বক্তব্যে সারজিস বলেন,
"বান্দরবান হচ্ছে শাস্তিস্বরূপ চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের পাঠানোর জায়গা।"
এই মন্তব্যে সরব হয়ে ওঠে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (PCSC) এবং স্থানীয় সংগঠনগুলো।
আজ দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের নেতারা সারজিসকে "অবাঞ্ছিত" ঘোষণা করেন এবং বলেন:
“এটি শুধু বান্দরবানের নয়, গোটা পার্বত্য চট্টগ্রামের মর্যাদাকে হেয় করার শামিল। এটি রাষ্ট্রীয় বৈষম্য ও অবহেলার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।”
তারা আরও দাবি করেন, এমন মন্তব্য জাতিগত সংবেদনশীলতা ও সংবিধানবিরোধী আচরণ।
বান্দরবান শুধু একটি জেলা নয়, এটি চাক, মারমা, ম্রো, তঞ্চঙ্গ্যা, বম প্রভৃতি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার নিবাস। এর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও জাতিগত বৈচিত্র্য বাংলাদেশের বহুত্ববাদী চরিত্রের প্রতিচ্ছবি।
স্বাধীনতার পর থেকে এই অঞ্চলে প্রশাসনিক অবহেলা, সামরিকীকরণ ও ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ বহুবার সামনে এসেছে।
সারজিসের মন্তব্য সেই দীর্ঘস্থায়ী ক্ষোভকেই যেন আবার উস্কে দিল।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২০২৫ সালে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সংস্কার ও অন্তর্বর্তীকালীন শাসনব্যবস্থার দাবিতে আলোচনায় উঠে আসে।
তাদের নেতৃত্বে "জুলাই পদযাত্রা" নামক একটি রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু হয়, যার মূল দাবি:
PR-ভিত্তিক সংসদ
নির্দলীয় নির্বাচনকালীন সরকার
রাষ্ট্রীয় সংস্থা পুনর্গঠন
জাতিগত সমতা ও অধিকার রক্ষা
এ প্রেক্ষাপটে সারজিস আলমের মন্তব্য এনসিপির অভ্যন্তরীণ নীতি ও জনমতের প্রতি স্পষ্ট প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ফেসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে “#BanSargis” এবং “#RespectChittagongHill” হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করছে।
অনেকেই বলছেন, "একটি জাতীয় নেতার উচিত ছিল এমন সংবেদনশীল অঞ্চলের প্রতি দায়িত্বশীল মন্তব্য করা।"
সারজিস আলমের দুঃখপ্রকাশ আপাতত পরিস্থিতিকে ঠাণ্ডা করতে পারলেও, এই ঘটনা রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক দায়িত্বশীলতা ও জাতিগত সহনশীলতার প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
এই ঘটনার পর এনসিপি কী ব্যবস্থা নেয় এবং তারা তাদের জাতিগত সংহতির প্রতিশ্রুতি কীভাবে বাস্তবে প্রমাণ করে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |